শনিবার- ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঋণের বোঝা নয়, প্রয়োজনে লোডশেডিং-বিদ্যুৎমন্ত্রীর

লোডশেডিং ও ঋণ
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

বিদ্যুৎ থাকবে, কিন্তু তার বিনিময়ে বাড়বে ঋণের পাহাড়-নাকি কিছুটা লোডশেডিং মেনে নেওয়া ভালো? এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকট কাটাতে নতুন করে ঋণের দায় নেওয়ার চেয়ে কিছুটা কষ্ট সহ্য করা ভালো।

অনুষ্ঠানটি ছিল জ্বালানি খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এফইআরবি)-এর নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর উপলক্ষে।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এখন চরম অস্থিরতা চলছে। বিপুল বকেয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না।

তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, বিএনপি সরকারের সময় লোডশেডিং ছিল, কিন্তু ঋণের বোঝা এতটা ছিল না। এখন আলো জ্বলছে ঠিকই, তবে দেশ ঋণের চাপে আছে।

ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বসিয়ে রাখা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া দিতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশাল ঋণের চাপ থাকলেও আপাতত সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে দামের বোঝা চাপাতে চান না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চাপ দেওয়ার আগেই খরচ কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ চুক্তিগুলোও পুনরায় পর্যালোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সিস্টেম লস কমানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী। তার দাবি, বিএনপির সময়ে এটি ছিল ৬ শতাংশ, এখন তা ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। সেটি ৫ শতাংশে নামানো গেলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না। দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা।

গ্যাস সংকটের জন্য তিনি আগের আওয়ামী লীগ সরকারকে দায়ী করেন। দীর্ঘ সময় নতুন কূপ খনন না হওয়া এবং উৎপাদন না বাড়ানোর ফলেই এখনকার সংকট তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো রাতারাতি সম্ভব নয়। এর জন্য সময় দরকার।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়