
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি ‘মাফিয়া গ্যাং’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না, এটি একটি মাফিয়া গ্যাং। আওয়ামী লীগ কেন রাজনীতি করতে পারবে না, কেউ কেউ এ আলাপ করার চেষ্টা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাঁধনের সঙ্গে যা হয়েছে, তাতে আবার ভাবতে হবে—আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে কোনোভাবে বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে কি না।’
তার দাবি, আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের পর দলটির মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনা থাকলে কিংবা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে আসার প্রকৃত ইচ্ছা থাকলে এ ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটত না।
বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনাকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’
লোডশেডিং নিয়ে যা বললেন
ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে গড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় কম ছিল।
ঢাকায় সাম্প্রতিক লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি। তাই একেবারেই লোডশেডিং থাকবে না, এমনটি বাস্তবসম্মত নয়।
তার ভাষায়, ইদানীং ঢাকায় কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে।
সারের মজুত নিয়ে আশ্বস্ত করলেন
সার সংকটের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে ১২ দশমিক ২৯৪ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে। গত বছর একই সময়ে মজুত ছিল প্রায় সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন।
তিনি বলেন, সারের মজুত নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও ব্রিফিংয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিত কাজ করছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
গ্যাস সংকট ও এলএনজি আমদানি
গ্যাস সংকটের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, চাইলেও বাংলাদেশ এখনই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি এলএনজি আমদানি করতে পারে না। কারণ দেশে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউর সক্ষমতা সীমিত।
তিনি জানান, জরুরি ভিত্তিতে চীনের কাছে একটি এফএসআরইউ নির্মাণের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এটি দেশে আসতে প্রায় দেড় বছর সময় লাগতে পারে।
তার মতে, প্রকল্পটির ক্ষেত্রে শুধু ব্যয় নয়, দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আগের সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় স্থলভাগের গ্যাস অনুসন্ধান এবং নতুন এফএসআরইউ স্থাপনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।




















