শনিবার- ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের যুগে কোন পেশাগুলো টিকে থাকবে, আর কোনগুলো হারিয়ে যাবে

Which professions will survive in the age of artificial intelligence and automation?
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হলো এমন এক ধরনের কম্পিউটেশনাল প্রযুক্তি, যা মানব বুদ্ধিমত্তার মতো কাজ—যেমন শেখা, যুক্তি করা, সমস্যা সমাধান, উপলব্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ—করতে সক্ষম। এটি কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি গবেষণা ক্ষেত্র, যেখানে গবেষকেরা এমন পদ্ধতি ও সফটওয়্যার তৈরি ও বিশ্লেষণ করেন, যা যন্ত্রকে পরিবেশ উপলব্ধি করতে এবং শেখা ও বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে। এ ধরনের যন্ত্রকে অনেক সময় এআই হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কয়েকটি পরিচিত প্রয়োগের উদাহরণ হলো উন্নত ওয়েব অনুসন্ধান ইঞ্জিন (যেমন গুগল সার্চ), সুপারিশ ব্যবস্থা (যেমন ইউটিউব, অ্যামাজন ও নেটফ্লিক্স), ভার্চুয়াল সহকারী (যেমন গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, সিরি, এবং অ্যালেক্সা), স্বয়ংচালিত যানবাহন (যেমন ওয়েমো), উৎপাদক ও সৃজনশীল সরঞ্জাম (যেমন চ্যাটজিপিটি ও এআই-চিত্রশিল্প), এবং কৌশলগত খেলায় অতিমানবীয় দক্ষতাসম্পন্ন খেলা ও বিশ্লেষণ (যেমন দাবা ও গো)। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তিকে আর “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা” হিসেবে ধরা হয় না: “আধুনিক এআই প্রয়োগের অনেকটাই এখন সাধারণ ব্যবহারে পরিণত হয়েছে, এবং এতটাই প্রচলিত হয়ে গেছে যে একে আর আলাদাভাবে এআই বলা হয় না।”

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অগ্রযাত্রা আধুনিক কর্মক্ষেত্রের ধরন পরিবর্তন করছে। অনেক কাজ অটোমেশনের ফলে বিলীন হয়ে গেলেও কিছু পেশা টিকে থাকবে বলে বিশ্বাস করেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটস। তার মতে, বিশেষজ্ঞ দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা যেখানে অপরিহার্য, সেই পেশাগুলো সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।

কোডার : যদিও এআই কোড লিখতে পারে, তবে জটিল সফটওয়্যার উন্নয়ন, ডিবাগিং এবং সমস্যা সমাধানে এখনো মানবপ্রোগ্রামারদের প্রয়োজন। গেটস মনে করেন, প্রোগ্রামাররা ভবিষ্যতেও এআই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ : জ্বালানি খাতের জটিলতা একা এআই সামলাতে পারবে না। পারমাণবিক শক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অপরিহার্য। তাই এ পেশা ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

জীববিজ্ঞানী : চিকিৎসা গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে সৃজনশীল চিন্তাধারা অপরিহার্য। যদিও এআই বিশ্লেষণে সহায়ক, তবে মৌলিক গবেষণা ও নতুন ধারণা তৈরির জন্য মানবজ্ঞানীরাই অপরিহার্য থাকবেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জন্য ক্ষতিকর ও বিপদজনক হতে পারে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এর কারণে আগামী পাঁচ বছরে পৃথিবীজুড়ে কাজ হারাতে পারেন এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ। এছাড়া ১০ পেশার মানুষের কর্মসংস্থান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দখলে যাবে বলে মনে করছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বা ডব্লিউইএফ। পাশাপাশি এআই এর ধাক্কা কাটিয়ে বাড়বে কিছু পেশার চাহিদা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর ব্যবহার নিয়ে পৃথিবীজুড়ে আলোচনা হচ্ছে, সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে এর ব্যবহার। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। যেভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে, বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার উন্নয়ন ঘটছে, তাতে কর্মক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলছে।

গবেষকরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের জন্য সংস্থাগুলো যেমন কিছু কর্মী নিয়োগ করবে, তেমনি এর ব্যবহারের ফলে পুরনো অনেক কর্মীর আর প্রয়োজন বোধ করবে না সংস্থাগুলো। সেখান থেকেই আসতে পারে কর্মী ছাটাই। আগামী ৫ বছরে কোন কোন পেশায় ‘এআই’ হানা দিতে পারে সম্প্রতি তার একটি তালিকাও প্রকাশ করেন তারা।

ব্যাংকের চাকরির ক্ষেত্রে এআই-এর একটি বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন গবেষক দল। তারা বলছেন, ‘অনলাইন ব্যাংকিং’ এর সুবিধা থাকায় এমনিতেই এখন ব্যাংক কর্মীদের কাজ অনেকটাই কমেছে। তবে কয়েক বছরে এআই-এর কৃপায় সশরীরে ব্যাংকে গিয়ে প্রয়োজন মেটানোর আর প্রয়োজন হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর ফলে গোটা বিশ্বজুড়ে কাজ হারাতে পারেন অসংখ্য ব্যাংক কর্মী।

এছাড়াও তারা মনে করছেন, পোস্টাল সার্ভিস ক্লার্ক, ডেটা এন্ট্রি কর্মী, ক্যাশিয়ার, হিসাব রক্ষক এআই-এর কারণে আগামী ৫ বছরে এই ধরনের পেশাগুলো প্রায় এক তৃতীয়াংশেরও বেসি কমতে পারে।

সম্প্রতি ‘এআই-এর কার্যকারিতা’ নিয়ে একটি আলোচনা সভা বসেছিল। সেখানে উঠে এসেছে ২০২৭ সালের মধ্যে আট কোটি তিন লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়বেন। আগামী ৬ বছর শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বহুল ব্যবহারে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ মানুষের কাজ চলে যাবে। যা বর্তমান কর্মসংস্থানের প্রায় দু’শতাংশ।

সরাসরি আমদানিকৃত লিফট ক্রয় করুন।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত আরো খবর

জনপ্রিয়