
একদিকে এক মাস পর আবার জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে শুরু করেছে ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা একটি ইউনিট। অন্যদিকে, একই দিনে কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে গেছে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট।
এতে রামপাল কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গেছে। তবে আদানির একটি ইউনিট চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্র জানায়, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
রামপাল কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মধ্যে একটি বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে সেখানে ৬০০ মেগাওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর আগে পর্যাপ্ত কয়লা থাকায় কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, ইউনিটটি কেন বন্ধ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সেটি আবার উৎপাদনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে সমস্যা হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যায়। পরে গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন কিছুটা বাড়ে। তখন দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।
গত বুধবার রাতে আদানি কেন্দ্রের উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে রাত ১২টার দিকে একটি ইউনিটের বয়লারে সমস্যা দেখা দিলে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। এর প্রভাব পড়ে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহেও, বেড়ে যায় লোডশেডিং।
আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রোববার ভোরে বয়লারের মেরামত শেষ হয়। এরপর ইউনিটটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে সেটি।
পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর ২টার দিকে আদানি কেন্দ্রের দুটি ইউনিট মিলিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সকালে কেন্দ্রটি সর্বোচ্চ ৭৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। বিকেলের দিকে সরবরাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা ছিল।
ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে কেন্দ্রটিতে।
২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। চাহিদা অনুযায়ী এই কেন্দ্র থেকে একসময় দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে।
দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা যখন সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে, তখন বড় দুটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদনে এমন ওঠানামা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।




















