
বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি।
ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ৭৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক। প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাধারণত ভারতের পররাষ্ট্র সার্ভিসের অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এবার সেই প্রচলিত ধারা থেকে কিছুটা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদীকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম হলেও বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তার রয়েছে গভীর পরিচিতি। বাংলা ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন তিনি, যা বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের মাধ্যমে। পরে তিনি জনতা দলে যোগ দেন এবং ১৯৯০ সালে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের সময় তিনি ভারতের রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
একসময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০১৬ সালের পর তাদের রাজনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস তাকে পুনরায় রাজ্যসভায় পাঠায়।
তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দেন এবং পরের মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।
বাংলাদেশে তার দায়িত্ব গ্রহণকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, তার নেতৃত্বে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কোন নতুন মাত্রা পায়।



















