
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে পরিচালিত অভিযানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন বেনজীর আহমেদ।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনাতেও বেনজীর আহমেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। ওই সময় বেনজীর র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ব্রিফিংয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, “বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন প্রতিটি মামলায় তার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগেও বেনজীর আহমেদের নাম উঠে এসেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “তার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত অব্যাহত আছে।”
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি অন্যান্য তদন্তাধীন মামলার প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সম্প্রতি বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



















